Author: shohag026
জন্ডিসের খাবারঃ জন্ডিসের কিছু ঘরোয়া প্রতিকার জেনে নিন
জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। যখন রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা অনেক বেশি হয়ে যায় তখন জন্ডিস হয়। জিনগত সমস্যার কারণে বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। এছাড়াও যকৃতের রোগ, দীর্ঘ সময় খাবার না খাওয়া, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি কারণে রক্তের বিলিরুবিনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে পারে। এর ফলে ত্বক হলুদ হয়ে যায় এবং চোখ সাদা হয়ে যায়। এছাড়াও শরীর ভীষণ দুর্বল হয়ে যায়, পেটে ব্যথা হয়, ওজন কমে যায়, জ্বর আসে এবং বমি হওয়ার মত লক্ষণগুলোও দেখা যায় জন্ডিস হলে। এছাড়া এই রোগে লিভারে কিংবা যকৃতে সমস্যা দেখা দেয়। এর সঠিক চিকিৎসা না নিলে রোগী মারাও যেতে পারে। একবার জন্ডিসের প্রভাব শরীরে পরা মানে তার যকৃৎ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া । জন্ডিস কিন্তু শুধু ওষুধে সারানো সম্ভব নয়। জন্ডিসের রোগীদের খাওয়া দাওয়ার দিকে অনেক নজর দিতে হয়। তেল ও মশলাদার খাওয়া একেবারে মানা। যে খাবার সহজে হজম হয় এমন ধরণের খাবার খাওয়া উচিত। ভালো খবর হচ্ছে কিছু ঘরোয়া উপায়ে নিয়ন্ত্রণে আনা যায় জন্ডিস। তাই জন্ডিস দ্রুত সারাতে চাইলে কিছু খাবার খাওয়া জরুরী। সেগুলো নিচে দেওয়া হলো:-
আমন্ড/কাজুবাদাম
প্রত্যেকদিন যদি ২-৪টি করে ভেজানো আমন্ড খাওয়া যায় তাহলে যকৃতের স্বাভাবিক কাজ অক্ষুণ্ণ রাখা সহজ হয়। আমন্ড শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ বের করে এবং শরীরের শক্তি সঞ্চয়ে সাহায্য করে।
বার্লি পানি
দৈনিক প্রচুর পরিমাণে বার্লি পানি পান করা পরিপাক তন্ত্রের কাজের উন্নতিতে সাহায্য করে। ৩-৪ লিটার পানিতে ১ কাপ বার্লি মেশান এবং এটিকে ৩ ঘন্টা ফুটতে দিন। নিয়মিত এই দ্রবণটি পান করলে তা জন্ডিসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে সুস্থ হতে সাহায্য করে।
পরিমিত পানি
জন্ডিস হলে প্রতিদিন অন্তত আট গ্লাস করে পানি খেতে হবে। কেননা জন্ডিস এক ধরণের পানিবাহিত রোগ। তাই এ সময় শরীরে পানির ঘাটতি দেখা দেয়। তাই পরিমিত পানি খেলে অতিরিক্ত টক্সিন বের হয়ে যায়। ফলে লিভার ফাংশক ঠিক থাকে।
আখের রস
আখের রস জন্ডিসের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষেত্রে আখের রস আপনার অন্যতম অস্ত্র হতে পারে। দৈনন্দিন নিয়ম করে এক গ্লাস আখের রস খেতে পারলে যকৃতের কার্যক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব।আখের রস শুধু ঘন ঘন প্রস্রাব হতেই সাহায্য করে না, বরং যকৃতের স্বাভাবিক কাজে, বিলিরুবিনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে এবং পিত্ত রস নিঃসরণেও সাহায্য করে। সম্ভব হলে দিনে ২-৩ বার পান করুন আখের রস। আখের রসের সাথে সামান্য লেবুর রস মিশিয়ে নিলে উপকারিতা পাবেন। তবে অবশ্যই তা বাসায় তৈরি করবেন, রাস্তার আখের রস পান করবেন না।
হার্বাল টি
জন্ডিস রোগ হলে কখনই কফি বা চা কিংবা কোকো খাবেন না। এতে মারত্মক ক্ষতি হতে পারে। এইসব খাবারের পরিবর্তে হার্বাল টি খান। এমনকি দুগ্ধজাত খাবার থেকে বিরত থাকতে হবে।
হজমে সাহায্যকারী খাবার
জন্ডিস হলে খাবার হজম হতে সমস্যা হয়। তাই যেসব খাবার দ্রুত হজম হয় সেরকমই উৎসেচক সমৃদ্ধ খাবার তালিকায় রাখুন। যেমন- মধু, কমলালেবু, আনারস, পেঁপে, পাকা আম ইত্যাদি খান।
ফাইবারযুক্ত খাবার
জন্ডিস রোগে ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার অবশ্যই খাবেন। ফাইবার জাতীয় ফল, সবজি তো অবশ্যই। এছাড়াও বাদাম, শস্যদানা যেমন- ওটমিল, আমন্ড, ব্রাউন রাইস ইত্যাদি বেশি করে খাবেন।
সুগার জাতীয় খাবার
জন্ডিস হলে সুগার জাতীয় খাবার খেতে হবে তবে তা পরিমিত হতে হবে। যেমন- আখের রস জন্ডিসের জন্য খুবই উপকারী। তবে হ্যা, রাস্তার ধারে বিক্রি হওয়া আখের রস খাবেন না। বাড়িতে আখ কিনে এনে কেটে খান কিংবা রস করে খেতে পারেন। এছাড়া সামান্য চিনি দিয়ে ইয়োগার্ট খেতে পারেন। তবে অতিরিক্ত চিনি লিভারের জন্য ক্ষতিকর।
মূলার জুস
যকৃৎ এবং পাকস্থলীর জন্য উপকারী মূলা। বিশেষ করে যকৃতের ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকরী এর স্বাভাবিক কাজ নিশ্চিত করার জন্য। এছাড়াও বিলিরুবিনের মাত্রাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার মাধ্যমে জন্ডিস নিরাময়ে সাহায্য করে মূলার জুস। মূলার রস প্রতিদিন নিয়মিত বিরতিতে পান করলে ইতিবাচক ফল পাওয়া যায়।
The Journey Begins
Thanks for joining me!
Good company in a journey makes the way seem shorter. — Izaak Walton

